ফোরটিন ডেস্ক : রংপুরের কামালকাছনায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; পুলিশ সদর দপ্তর ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সারাদেশে অপরাধ ও সহিংসতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টিরও বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে। চুরি ও ডাকাতি কিছুটা কমলেও রক্তপাত ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না, যা জনমনে তীব্র নিরাপত্তার সংকট তৈরি করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে সারাদেশে খুন বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ২ হাজার ৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসেই ৯৩৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম পরিস্থিতি স্বীকার করে জানিয়েছেন, মানুষের মধ্যকার স্থানিক বিবাদ ও পারিবারিক অস্থিরতা আগে থেকে প্রেডিক্ট করা সম্ভব না হলেও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থানা থেকে লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার, পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়া এবং অপরাধীদের বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণেই মূলত এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন বলছে, বছরের প্রথম সাত মাসে মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৪ জন এবং রাজনৈতিক সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হয়েছেন আরও ৭৭ জন। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাতেও গত ছয় মাসে মামলা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর ও বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনা ছাড়া এ ধরণের অপরাধ দমন অসম্ভব। বিচার ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার না করলে নির্বাচিত সরকারের সময়েও সাধারণ মানুষের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
