নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৯ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে ওষুধের দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে মো. হেলাল উদ্দিন (৪২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা হাতেনাতে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটক হেলাল একসময় যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও পটপরিবর্তনের পর নিজের অপরাধ ঢাকতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আজ রবিবার (২৩ আগস্ট, ২০২৬) সকালে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম বাজারে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টার ওই গ্রামের বেলায়েত খলিফার ছেলে। তিনি বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি আগে স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকে কৌশলে নিজের ফার্মেসিতে ডেকে নেন হেলাল। এরপর দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা হাতেনাতে ধরে ফেলে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এ সময় হেলাল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে গণধোলাই দিয়ে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত হেলাল মাস্টার ইতিপূর্বেও একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। গত ৪ আগস্ট একই এলাকায় অন্য এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় বিচারে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০টি বেত্রাঘাত করা হয়। তিনি ছদ্মবেশে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গা বাঁচাতে তিনি রাতারাতি জামায়াতে শিবিরের রাজনীতিতে ঢুকে পড়েন এবং দলীয় কর্মসূচিতে যাতায়াত শুরু করেন।
এ বিষয়ে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হেলাল জামায়াতের কোনো বৈধ কর্মী নন, তিনি মূলত সাবেক যুবলীগ নেতা এবং নিজেকে আড়াল করতেই ৫ আগস্টের পর জামায়াতের নাম ভাঙানোর চেষ্টা করছিলেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করছেন। নির্যাতিত শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
