ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে এক মুসলিম কর্মীর ওজু করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন এক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ফেরিতে অবস্থিত আমেরিকান খাদ্য ও কফি জায়ান্ট ‘ডানকিন ডোনাটস’-এর একটি আউটলেটে ওই ঘটনা ঘটে। সেখানে নির্দিষ্ট বা উপযুক্ত কোনো জায়গা না পেয়ে কাজের ফাঁকে কিচেন সিঙ্কেই ওজু করতে বাধ্য হন ওই কর্মচারী।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কর্মী নামাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাউন্টারের ভেতরের কিচেন সিঙ্কে পা ধোচ্ছেন এবং পাশেই একটি জায়গায় সজাগ হয়ে জায়নামাজ পেতে রাখা হয়েছে। ডানকিন ডোনাটসের ওই আউটলেটে নামাজের জন্য তো দূরের কথা, সাধারণ ওয়াশরুম বা ওজু করার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ না থাকায় বাধ্য হয়ে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে ওই কর্মী তাঁর ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা পালন করছিলেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। কিছু নেটিজেন বিষয়টিকে খাবার তৈরির স্থানের পরিচ্ছন্নতার প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করলেও, এর চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষ ওই কর্মীর অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। প্রবাসী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, আমেরিকা বা বিশ্বজুড়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুসলিম কর্মীদের ইবাদতের ন্যূনতম ব্যবস্থা বা ‘রিলিজিয়াস অ্যাকোমোডেশন’ না থাকাটাই আসল ব্যর্থতা।
ইসলামে নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায়ের কঠোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও একজন কর্মীর ধর্মপরায়ণতার এই লড়াইকে সম্মান জানিয়ে অনেকেই বলছেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং আমেরিকান করপোরেট সংস্কৃতির ভেতরে মুসলিম কর্মচারীদের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থনাকক্ষ ও ওজুর সুব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
