নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর : ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় অবৈধ কারখানায় অননুমোদিত যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং বেবি জেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির দায়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাকে ইতোমধ্যে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬-এর সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী কারখানাটিতে তাৎক্ষণিক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অননুমোদিত ওষুধ উৎপাদন ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী তৈরির অপরাধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত সাজা ঘোষণা করে।
জেলা প্রশাসন ফরিদপুর এবং স্বাস্থ্য ও ওষুধ প্রশাসন বিভাগ যৌথভাবে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জেলা জুড়ে নিয়মিত এমন আইনি পদক্ষেপ তদারকি করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবৈধ উৎপাদন কেন্দ্র চিহ্নিত করে সিলগালা করার প্রশাসনিক উদ্যোগ বহাল রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকোর নেতৃত্বে গোয়ালচামট এলাকার ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজে’ পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “অন্যায়ের সাথে দলের কোনো আপস নেই; অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রকে জানিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে পরিচালিত এই কারখানা বন্ধ ও মালিকের সাজা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ওষুধ আইন লঙ্ঘন ও অনুমোদনহীন ওষুধ প্রস্তুতকারী যেকোনো কারখানার বিরুদ্ধে এমন কঠোর অভিযান ও আইনি তদারকি সামনেও অব্যাহত থাকবে।
