ফোরটিন ডেস্ক : বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলনামা পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেশের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যকালের মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে যেকোনো মূল্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখা এমনই কঠোর অভিযোগ এনেছেন রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আমেরিকার সাথে তড়িঘড়ি করে সম্পাদন করা একপেশে বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে উচ্চমূল্যে পণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা সবকিছুতেই ভূ-রাজনৈতিক তোষণনীতির স্পষ্ট আলামত দেখা গেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গৃহীত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর প্রায় প্রতিটিই সাজানো হয়েছিল ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে। বিশেষ করে নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে তাড়াহুড়ো করে করা বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোনো জোরালো শর্ত ছাড়াই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও বাণিজ্যিক খাতকে মার্কিন একক প্রভাবের অধীন করার বিনিময়ে কূটনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
সবচেয়ে বড় খেসারত দিতে হয়েছে দেশের সাধারণ জনগণকে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চড়া দামে মার্কিন পণ্য কিনতে বাংলাদেশকে বাধ্য করার একাধিক নজির স্থাপন করেছিল সাবেক এই প্রশাসন:
- জ্বালানি খাত: উন্মুক্ত দরপত্র পাশ কাটিয়ে চড়া দামে মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এলপিজি ও জ্বালানি আমদানির বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়।
- কৌশলগত কাঁচামাল: তুলা ও গমের মতো জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বৈশ্বিক বাজারের চেয়ে অতিরিক্ত দামে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনার একপেশে শর্ত মেনে নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।
এই অবিবেচক ও ভূ-রাজনৈতিক তোষণনীতির কারণে তৎকালীন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের রিজার্ভ থেকে কোটি কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ হিসেবে বের হয়ে যায়। যার মাশুল এখন গুনতে হচ্ছে বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার ও সাধারণ জনগণকে।
বর্তমানে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সচেতন মহল ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এসব স্পর্শকাতর ও একপেশে চুক্তি অবিলম্বে পুনঃমূল্যায়নের জোরালো দাবি তুলেছেন। তারা বলছেন, একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনায় গিয়ে ড. ইউনূস স্বাধীন সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতিকে মার্কিন প্রেসক্রিপশনের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন, যা দেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ইতিহাসে এক মারাত্মক ও নিন্দনীয় নজির হয়ে থাকবে।
