ফোরটিন ডেস্ক : জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট, বিদ্যুতের আকাশচুম্বী ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের হাজার হাজার নেতাকর্মী। তবে পুলিশের ব্যারিকেডে বাধার মুখে পড়েই সচিবালয় সংলগ্ন পুরো এলাকা ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ উত্তাল স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট, ২০২৬) দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের মূল ফটকের সামনে পৌঁছালে পুলিশ এগারো দলীয় ঐক্যজোটের গণপদযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বাধার মুখে ব্যারিকেডের সামনে বসেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ পরিচালনা করেন নেতারা। এতে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিবাদী স্লোগান তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ঘটনাস্থলে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি আপনারা আমাদের এই ন্যায়সংগত পদযাত্রা থামাতে চান, তবে ভেতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা তাঁর প্রতিনিধিকে এখানে এসে জনগণের দাবি শুনতে হবে। আমরা সরাসরি জনগণের দুঃখ-কষ্টের স্মারকলিপি তাদের হাতে তুলে দিতে চাই।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জনগণের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও খাদ্যের দাবি বাস্তবায়নে তারা সফল হলে আমরা ধন্যবাদ জানাব। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না; দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচির পর কর্মসূচি এবং লাগাতার আন্দোলন চলতেই থাকবে।”
সমাবেশে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মাইকে ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’ স্লোগান তুললে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘নইলে গদি ছাইড়া দে’ ধ্বনিতে পুরো সচিবালয় এলাকা কাঁপিয়ে তোলেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিবাদী স্লোগান চলতে থাকে।
পরবর্তীতে বেলা দেড়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও সচিবালয় থেকে সরকারের কোনো প্রতিনিধি বা মন্ত্রী স্মারকলিপি গ্রহণ করতে না আসায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, “সচিবালয় থেকে এখানে হেঁটে আসতে মাত্র পাঁচ মিনিট লাগে, অথচ ২০ মিনিট পার হলেও কেউ এলো না। আমরা ধরে নিচ্ছি তারা জনগণকে ভয় পাচ্ছে।” এরপরই জামায়াত আমীর চলতি পদযাত্রা সমাপ্তি ঘোষণা করে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
