ফোরটিন ডেস্ক : গ্রামের উন্নয়নের কথা বলে নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের দুটি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সোবহান ওরফে নয়ন এবং একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের দাবি, বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ইজারা থেকে পাওয়া অর্থের মধ্যে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিএনপির ওই দুই নেতা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জুন মাসে মাইকিং করে প্রকাশ্য ডাকের মাধ্যমে বিদ্যালয় দুটির ১৫ একর জমি এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৪ জুন বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ বিঘা জমি ৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ টাকায় এবং ২৮ জুন বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ বিঘা জমি ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ টাকায় গ্রামের কৃষকদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়। দুটি বিদ্যালয়ের জমি ইজারা দিয়ে মোট ৬ লাখ ৭১ হাজার ৬২৫ টাকা পাওয়া যায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকাশ্য ডাক শেষ হওয়ার পর ইজারা গ্রহণকারীরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে টাকা বুঝিয়ে দেন। এ সময় গ্রামের উন্নয়নের কথা বলে বিএনপির দুই নেতা অর্থ নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইজারা থেকে পাওয়া ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকা নিয়ে নেন আবদুস সোবহান ও আজমল। একইভাবে বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি ইজারার টাকা থেকে আরও ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে দুই নেতা মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ভাগাভাগি করে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের জমি ইজারার টাকা থেকে বিএনপির দুই নেতা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বিষয়টি ঘটনার পরপরই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই বিদ্যালয়ের অন্তত ১০ জন শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি ইজারা থেকে পাওয়া অর্থ সাধারণত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। কিন্তু প্রকাশ্যে বিদ্যালয়ের টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তারা মেনে নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, গ্রামের উন্নয়নের কথা বলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া দুঃখজনক। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় মানুষ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান বলেন, একসময়ের আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস সোবহান ওরফে নয়ন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের টাকা গ্রামের লোকজনের মধ্যেই আছে। পারলে সংবাদ প্রকাশ করতে বলেন তিনি।
অপর অভিযুক্ত আজমল হোসেন দাবি করেন, বিদ্যালয়ের কিছু টাকা গ্রামের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজে লাগানো দোষের কিছু নয়। তবে তার কাছে কোনো টাকা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, দুই বিদ্যালয়ের জমি ইজারার ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন। ওই টাকা উদ্ধারে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
