যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর জিনেট ও আলেকজান্ডার টকজকোর দাম্পত্য জীবনের গল্প যেন দীর্ঘ একসঙ্গে পথচলার প্রতিচ্ছবি। শৈশবে পরিচয়, এরপর বিয়ে, সাত দশকের বেশি সময়ের সংসার এবং জীবনের শেষ প্রান্তে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিদায় নেন এই দম্পতি।
১৯১৯ সালে কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডে জন্ম জিনেট ও আলেকজান্ডারের। দুজনের পরিবারই ছিল পোল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী। মাত্র আট বছর বয়সে তাদের পরিচয় হয়। শৈশবের সেই পরিচয় সময়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়।
১৯৪০ সালে বিয়ে করেন তারা। এরপর কেটে যায় ৭৫ বছরেরও বেশি সময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আলেকজান্ডার যুক্তরাষ্ট্রের নেভিতে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত হন। সান দিয়েগোতে নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে জিনেটও তাঁর সঙ্গে কাজ শুরু করেন এবং প্রধান স্টাইলিস্টের দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের পরিবারও বড় হয়। পাঁচ সন্তান, ১০ নাতি-নাতনি এবং ছয় প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী নিয়ে তাদের পরিবার গড়ে ওঠে।
২০১৫ সালের মে মাসে পড়ে গিয়ে আলেকজান্ডারের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই তাঁর জন্য হসপিস কেয়ারের ব্যবস্থা করেন।
আলেকজান্ডারের জন্য একটি বিছানা এনে সেটি জিনেটের বিছানার পাশে রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, জীবনের শেষ সময়টুকুতেও যেন তারা একে অপরের কাছাকাছি থাকতে পারেন।
তাদের ৭৫তম বিবাহবার্ষিকী ছিল ২৯ জুন। তবে আলেকজান্ডারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবার আগেই ছোট পরিসরে দিনটি উদযাপন করে। ঘরে আনা হয় ফুল ও বেলুন। পরিবারের সদস্যরা তাদের দীর্ঘ দাম্পত্যের ৭৫ বছর উদযাপন করেন, যখন আলেকজান্ডার তখন জীবনের শেষ সময় পার করছিলেন।
১৭ জুন আলেকজান্ডার স্ত্রীর কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে পরিবারের সদস্য অ্যাইমি টকজকো-কুশম্যান জানান, মাকে স্বামীর মৃত্যুর কথা জানানো হলে জিনেট তাঁকে জড়িয়ে ধরে জানান, তিনি তাঁর স্বামীকে ভালোবাসেন এবং তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেছেন, কারণ তিনিও শিগগিরই তাঁর কাছে আসবেন।
এরপর জিনেটকে কিছু সময় স্বামীর পাশে থাকতে দেওয়া হয়। পরদিন, ১৮ জুন, আলেকজান্ডারের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ৯৬ বছর বয়সী জিনেটও মারা যান।
পরিবারের কাছে ঘটনাটি ছিল তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শেষ অধ্যায়ের এক আবেগঘন পরিণতি। জীবনের শেষ সময়েও তারা আলাদা থাকেননি, বরং পাশাপাশি থেকেই বিদায়ের অপেক্ষা করেছেন।
২৯ জুন, তাদের ৭৫তম বিবাহবার্ষিকীর দিন দুজনকে যৌথভাবে দাফন করা হয়। আট বছর বয়সে যে সম্পর্কের শুরু হয়েছিল, সাত দশকের বেশি সময় পর সেই সম্পর্কের শেষ অধ্যায়ও একই সময়ের কাছাকাছি এসে থেমে যায়।
