নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এড়াতে পুরো পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে জরুরি এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেন।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, আজ বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় এনসিপি বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। ঠিক একই সময়ে এবং একই স্থানে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয়। একই মাঠে প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের মুখোমুখি উপস্থিতি এবং পূর্বের বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও জনশান্তি বিনষ্টের মারাত্মক আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে জনস্বার্থে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
জারিকৃত আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের সমাগম, মিটিং-মিছিল, স্লোগান, মাইকিং, পিকেটিং কিংবা পরিবেশ অশান্ত করতে পারে এমন যেকোনো ধরণের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, গতকাল হবিগঞ্জে এনসিপির বহরে হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকে হবিগঞ্জে এই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এনসিপি। ওই সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপি নেতৃবৃন্দের ‘উসকানিমূলক মিথ্যাচারের’ অভিযোগ এনে একই দিনে জেলা জুড়ে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয় ছাত্রদল ও যুবদল। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি এই চরম অবস্থানের কারণে সকাল থেকেই পুরো হবিগঞ্জ শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সার্বিক বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ জানান, ১৪৪ ধারা অমান্য করে কেউ যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আগের দিনের হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুত শনাক্তের কাজ চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
