নিজস্ব প্রতিবেদন : পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার গুরুতর অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক স্থানীয় জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে বেশ কিছুদিন আগে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে পল্লী চিকিৎসক মাহাবুবের পরিচয় হয়। ওই নারী বিভিন্ন সময় তাঁর নানামুখী পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আসায় মাহাবুবের কাছ থেকে তাবিজ-কবজ নিতেন। অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী নারীর ভাইয়ের ছেলেকে একটি বিশেষ তাবিজ দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে কৌশলে নিজের জনমানবহীন বাড়িতে ডেকে নেন মাহাবুব। এই কুপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওইদিন সকালেই নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের সুকৌশলে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর সরল বিশ্বাসে ওই নারী মাহাবুবের বাড়িতে গেলে দুজনে কিছু সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে নির্জন ঘরের ভেতর সুযোগ বুঝে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান মাহাবুব। তখন ঘর থেকে ওই নারীর আকস্মিক চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশে খবর দিলে তাৎক্ষণিকভাবে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মাহাবুবকে হাতেনাতে আটক করে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মহসিন হাওলাদার এই নজিরবিহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, এই বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ধর্ষণচেষ্টার এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়টি তাঁর আগে জানা ছিল না। তবে তদন্তে দলীয় কোনো পদের ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।”
