নিজস্ব প্রতিবেদন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস এলাকায় তিন যুবককে বেধড়ক মারধর, আটকে রেখে নির্যাতন এবং মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৮ কর্মীর নাম উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও অন্তত ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার শিকার ভুক্তভোগীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম সাজিদ শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর এলাকায় অবস্থানকালে সাজিদ, ফারদিন খান ও মোর্শেদ আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল যুবক। হামলাকারীরা কোনো কিছু না বসেই তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে এবং একপর্যায়ে ফারদিনের মোটরসাইকেলের চাবি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ে চম্পট দেয়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে সাজিদকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে পুনরায় মারধর করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে তা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি কোনো রকমে কৌশলে হামলাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে শাহবাগ থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। তবে ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি; পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে ভুক্তভোগীদের আবার ক্যাম্পাসে ডেকে এনে দ্বিতীয় দফায় নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত যে ৮ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— আল শামস, সাদমান সাকিব, হিরা রহমান, অভি রহমান, তামজিদ, শিব্বির আহমেদ, মাসরুর কামাল মাহিন ও সাইফুর রসুল পলাশ। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আরও কয়েকজনকে ছবি দেখে শনাক্ত করার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী যুবকরা।
এদিকে তাদের বিরুদ্ধে আনা মারধর ও ছিনতাইয়ের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আল শামস। তার দাবি, রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে ছিনতাই বা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তালিকায় থাকা অন্য কয়েকজন অভিযুক্তও ঘটনার সময় তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে ছিলেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এক যৌথ বক্তব্যে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তারা শুনেছেন। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে যদি তাদের কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতনও এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততায় মারধর, ছিনতাই কিংবা ক্যাম্পাসে ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নৈতিকতার নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
