নিজস্ব প্রতিবেদন : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলায় আব্দুস শুকুর (৪০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতার গলাকাটা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আতাইকুলা থানার ভূলবাড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি নির্জন বাগান থেকে তাঁর এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুস শুকুর রতনপুর গ্রামের মৃত রোকন প্রামাণিকের ছেলে এবং ভূলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ব্যক্তিগত কাজ আছে বলে বাড়ি থেকে একাকী বের হন শুকুর। এরপর গভীর রাত ১২টা পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মনে তীব্র সন্দেহ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। সারারাত ধরে স্থানীয় লোকজন, সম্ভাব্য সকল জায়গা এবং আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে ফোন করেও তাঁর কোনো খোঁজখবর বা সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রতনপুর এলাকার উজিরের বাগানের ভেতরের একটি গভীর জঙ্গলে তাঁর গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পুলিশে খবর দেয়।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আতাইকুলা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, ঠিক কী কারণে কিংবা কারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এবং খুনিদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই জোরদার কাজ শুরু করেছে
