আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজোন পার্কে প্রবাসীদের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন ২৪ ঘণ্টা খোলা রেস্টুরেন্ট ‘বৈঠকখানা’-তে ভোররাতে বোমাসদৃশ একটি জ্বলন্ত ডিভাইস নিক্ষেপের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে রেস্টুরেন্টে কর্মরত কর্মীদের তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও চরম তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় অল্পের জন্য সম্ভাব্য একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা ভয়াবহ বিস্ফোরণ থেকে রক্ষা পেয়েছে রেস্টুরেন্টটি।
রেস্টুরেন্টের ভেতরে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে দেখা যায়, বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি চলাকালীন সময়ে সম্পূর্ণ শরীর রেইনকোটে ঢাকা এবং মুখে মুখোশ পরা এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অত্যন্ত সুকৌশলে রেস্টুরেন্টের প্রধান প্রবেশদ্বারটি খোলে। এরপর হাতের ভেতরে থাকা জ্বলন্ত একটি বোমাসদৃশ ডিভাইস ভেতরের মেঝেতে ছুড়ে মেরেই নিমেষের মধ্যে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ডিভাইসটি ফেলার পরপরই সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করে।
ঠিক সেই মুহূর্তে রেস্টুরেন্টের ভেতরে থাকা কর্মীরা আগুন দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্রতার সাথে তা নেভানোর কাজে নেমে পড়েন এবং দ্রুততম সময়ে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁদের এই সময়োচিত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে ডিভাইসটি থেকে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) বেশ কয়েকটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকাটি ক্রাইম সিন হিসেবে ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে এনওয়াইপিডির বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট (Bomb Squad) সহ একাধিক বিশেষায়িত গোয়েন্দা ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আলামতসহ ডিভাইসটি উদ্ধার করে এবং উন্নত ল্যাব পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘বোমাসদৃশ ক্ষতিকারক ডিভাইস’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এটি কোনো পেশাদার ও কার্যকর বিস্ফোরক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো এনওয়াইপিডির ব্যালেস্টিক বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীকে শনাক্ত করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত এবং ওজোন পার্কের ওই সড়কের আশপাশের অন্যান্য নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে।
ঘটনার সময় রেস্টুরেন্টটি খোলা থাকায় কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও অলৌকিকভাবে কেউ জখম হননি। এনওয়াইপিডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা এর পেছনে কোনো বর্ণবাদী বা ব্যক্তিগত শত্রুতা জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। একই সাথে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা এই ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা প্রবাসীদের থাকলে তাদের গোয়েন্দা বিভাগকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে।
