আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একই সময়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা পুনর্গঠিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিতর্কিত সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আকস্মিক উপস্থিতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই শহরে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুর শীর্ষ ব্যক্তিত্বের অবস্থানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও জল্পনা তৈরি হলেও, এখন পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈঠক, গোপন আলোচনা কিংবা যোগাযোগ হয়েছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
সরকারি তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ৫ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করে নিউইয়র্কে পৌঁছান। সেখানে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত পঞ্চম ‘ইউনাইটেড নেশনস চিফস অব পুলিশ সামিট’ (UNCOPS-V)-এ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে তাঁর এই সফর। ৭ ও ৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এই উচ্চপর্যায়ের বৈশ্বিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশপ্রধান এবং জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই সফরটি সম্পূর্ণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানকে সম্প্রতি নিউইয়র্কের বিভিন্ন রাস্তায় ও শপিং মলে দেখা যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রবাসী বাংলা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক ফৌজদারি মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মাঝেই তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের খবরটি প্রবাসীদের মাঝে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
দুই ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের একই সময়ে নিউইয়র্কে অবস্থান নিয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ডালপালা মেললেও, বাংলাদেশ সরকার কিংবা শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ কোনো মহলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর ভারতের মেঘালয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয় এবং সেখানে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে তাঁর বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি কর্মসূচির অংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই ভিন্ন মেরুর এবং চরম বৈরি ভাবাপন্ন রাজনৈতিক ঘরানার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির একই সময়ে একই আন্তর্জাতিক শহরে অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নানামুখী কৌতূহলের জন্ম দেয়। তবে যেহেতু এ মুহূর্তে তাঁদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য কিংবা প্রমাণ নেই, তাই আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা এটিকে একটি নিছক ‘কাকতালীয় সমাপতন’ হিসেবেই দেখছেন।
