নিজস্ব প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সোহেল রানার রহস্যজনক ও আকস্মিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার (৫ জুলাই) সলঙ্গার সাহেবগঞ্জ এলাকার ফুলজোড় নদী থেকে তাঁর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত কয়েকদিন ধরে তিনি নিখোঁজ থাকার পর এভাবে নদী থেকে ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় পুরো এলাকাজুড়ে এক অজানা আতঙ্ক ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. সোহেল রানা গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। আজ রোববার দুপুরের দিকে সাহেবগঞ্জ এলাকার ফুলজোড় নদীতে একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা সলঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে মরদেহটি তীরে তুলে আনে। খবর পেয়ে নিখোঁজ সোহেল রানার পরিবারের সদস্যরা নদীপাড়ে ছুটে যান এবং কাপড়ের অবয়ব ও চেহারা দেখে মরদেহটি মো. সোহেল রানার বলে নিশ্চিত করেন।
এদিকে নদী থেকে লাশ উদ্ধারের পরপরই নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা এটিকে সাধারণ কোনো মৃত্যু বলে মানতে নারাজ। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, সোহেল রানাকে পূর্বশত্রুতা বা রাজনৈতিক কোনো কোন্দলের জেরে অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এই নৃশংস ঘটনার পেছনে জড়িতদের অনতিবিলম্বে খুঁজে বের করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সলঙ্গা থানা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত হতে আমাদের তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে।” তবে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে নদী থেকে নেতার লাশ উদ্ধারের এই ঘটনায় সলঙ্গা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
