নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার কোনাপাড়ায় জঙ্গি বা উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ভোররাতের এক বিশেষ অভিযানে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার (৫ জুলাই) গ্রেপ্তারকৃতদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই রিমান্ড আদেশ দেন বলে আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম খান নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান এবং বায়োজিত। আজ ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া সংলগ্ন ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকা থেকে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, কোনাপাড়ার মিনি কক্সবাজার এলাকায় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রজেক্টের জমির পাশে বিশাল বালুর মাঠে উগ্রবাদী বা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের কিছু সদস্য তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ পরিচালনার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে জড়ো হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার একটি চৌকস দল ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ওই বালুর মাঠে আকস্মিক অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা চারদিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে এই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করেন। পুলিশ তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই স্থানে ভোররাতে জড়ো হওয়ার কোনো সদুত্তর বা বৈধ কারণ দেখাতে পারেনি আসামিরা। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, তারা কোনো বড় ধরনের উগ্রবাদী বা দেশবিরোধী নাশকতামূলক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা করছিল।
এদিকে, সকাল থেকেই জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃত এই ৬ আসামিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ব্যাপক পুলিশি প্রহরার মধ্য দিয়ে তাদের এজলাসে তোলা হয় এবং শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর আবার কঠোর নিরাপত্তায় থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামিদের কাছ থেকে আর কোনো বিস্ফোরক বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা যায় কিনা, তা জানতে রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
