নিজস্ব প্রতিনিধি : বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাফসহ এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে ছিনিয়ে নেওয়ার এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপুল বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে স্থানীয় লোকজন পুলিশ কর্ডন ভেঙে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর হ্যান্ডকাফ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে পুলিশ প্রশাসন। পরবর্তীতে গভীর রাতে স্থানীয়দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার পর পুলিশের দেওয়া চাবি দিয়ে হ্যান্ডকাফটি খুলে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে থানায় একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে রামারপুল বাজার এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ কর্মী রাশেদুল ইসলাম সেতু ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে মুলাদী থানা পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তারের পরপরই পুলিশ তাঁর হাতে হ্যান্ডকাফ পরালে স্থানীয় একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ পুলিশ সদস্যদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থাতেই সেতু ভূঁইয়াকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন আইনগত জটিলতা ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় গভীর রাতে এক সমঝোতার মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খন্দকার সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, “আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি ঘটলেও পুলিশ দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিল। গ্রেপ্তারকৃত রাশেদুল ইসলাম সেতু ভূঁইয়া ওই মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি ছিলেন।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, সরকারি কাজে বাধা এবং হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাইয়ের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার মুলাদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নতুন মামলা দায়ের করেছেন। ওসি খন্দকার সোহেল রানা জানান, মামলার প্রধান আসামি সেতু ভূঁইয়াসহ এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্য অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্রান্তিকালের মাঝে প্রকাশ্য বাজার থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার এই ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
