নিজস্ব প্রতিনিধি : কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর ‘এক টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে সংসদ থেকে ইস্তফা দেব’—এমন প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের পর তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকায় কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলাজুড়ে সোলার ল্যাম্পপোস্ট এবং সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) সৈয়দ সাইফুল ইসলাম। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বুলি আওড়ানো এই তরুণ নেতা খেজুরের মতো ছোট খাতের হিসাব প্রকাশ করলেও, সোলার প্যানেলের মতো বড় বড় সরকারি বরাদ্দের কোনো সঠিক হিসাব এলাকাবাসীকে দিচ্ছেন না।
ছাত্র অধিকার পরিষদের এই নেতার অভিযোগ, দেবিদ্বারে সরকারিভাবে যে সোলার প্যানেলগুলো বিতরণ করা হয়েছিল, সেগুলোর সিংহভাগই নিয়ম মেনে বিতরণ করা হয়নি। নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা গ্রামীণ রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টগুলো বসার কথা থাকলেও, সেগুলো এখন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির সীমানায়, এমনকি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কবরস্থানে শোভা পাচ্ছে।
এনসিপির যেসকল নেতাকর্মীরা এই প্রকল্প বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন, তারা রাতের আঁধারে এই সোলার প্যানেলগুলো কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন কি না তা নিয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে এই অনিয়মের অসংখ্য ভিডিও এবং স্থিরচিত্র প্রমাণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সমালোচকদের মতে, যেকোনো প্রকল্পে অনিয়মের কথা তুললেই এনসিপির পক্ষ থেকে এটিকে ‘উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সাইফুল ইসলাম তাঁর বিবৃতিতে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, যদি ল্যাম্পপোস্টের দায় উপজেলা প্রশাসনের হয়, তবে এর আগে খেজুর বিতরণের কৃতিত্ব ও হিসাব কেন হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল? উন্নয়ন বরাদ্দের রাস্তাঘাট মেরামত এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর আর্থিক বরাদ্দগুলো সঠিকভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করার নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে হাসনাতের ওপরেই বর্তায়।
বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন সংস্কৃতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে খোদ সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্যের এলাকায় এমন স্বজনপ্রীতি ও বিতরণের অস্বচ্ছতা সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম হতাশ করেছে।
ইতিমধ্যেই দেবিদ্বারের সাধারণ মানুষ ও অধিকার কর্মীরা এই ল্যাম্পপোস্ট কেলেঙ্কারি ও অন্যান্য আর্থিক বরাদ্দের বিষয়ে লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতার আবেদন জানিয়েছেন। এই ঘটনার পর দেবিদ্বারের স্থানীয় রাজনীতিতে এনসিপি এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের মধ্যকার বৈরিতা আরও চরম আকার ধারণ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
