নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশে বিগত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি চার সিনিয়র সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মামলাগুলো পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ)। গত রবিবার এক আন্তর্জাতিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বস্তুনিষ্ঠ কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের মাসের পর মাস আটকে রাখা দেশের আইনের শাসন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের আঘাত। একই সাথে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষিত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও প্রেস ফ্রিডম রক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে বিশ্বমঞ্চে এখন নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিবৃতিতে সিজেএ-এর সহ-সভাপতি তথা ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু, ফারজানা রূপা এবং একাত্তর টিভির সিনিয়র সাংবাদিক শাকিল আহমেদের দীর্ঘ আটকাদেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আগামী মঙ্গলবার শ্যামল দত্তের হাইকোর্টে হাজিরার বিষয়টি উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায়, প্রায় ৬০০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্যপ্রমাণ বা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিতে পারেনি। প্রমাণিত কোনো অপরাধের চেয়ে মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শ ও পেশাগত সম্পর্কের জেরে এই মামলাগুলো করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
সাংবাদিকদের কারাজীবনের মানবিক পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটি। জানা গেছে, গুরুতর হৃদরোগ ও স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত শ্যামল দত্তের জন্য জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তিনি তা পাচ্ছেন না। একইভাবে প্রোস্টেট ক্যান্সারের জটিল অস্ত্রোপচারের পর ফলো-আপ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মোজাম্মেল হক বাবু। এছাড়া ফারজানা রূপাকে দুই সপ্তাহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত অন্ধকার ‘কনডেমড সেলে’ রাখার ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সিজেএ সাফ জানিয়েছে, একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমই গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া ছাড়া সাংবাদিকদের এভাবে দীর্ঘ বন্দি রাখা বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা সম্পূর্ণ দুর্বল করে দেয়। ফলে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে অবিলম্বে এসব রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও অসুস্থ সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
