নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকা একটি সড়ক ভেঙে পুনর্নির্মাণের কাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন নাগরিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, জরাজীর্ণ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার না করে সচল সড়ক ভেঙে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে জনদুর্ভোগ বেড়েছে এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিকলী নতুন বাজার থেকে খয়রাত পর্যন্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সড়কটি কয়েক বছর আগে নির্মিত হয়। এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটির কয়েকটি স্থানে ছোটখাটো গর্ত সৃষ্টি হলেও সীমিত সংস্কার করলেই এটি আরও কয়েক বছর ব্যবহারযোগ্য থাকত। তবে সম্প্রতি পুরো সড়ক ভেঙে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিকলী নতুন বাজার থেকে রসুলপুর পর্যন্ত উপজেলার প্রধান সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া গার্লস স্কুল মোড় (প্রস্তাবিত বীর বিক্রম চত্বর) এবং রোদা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর প্রশস্তকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা তুলে আসছেন। তাদের প্রশ্ন, এসব জরুরি অবকাঠামো সংস্কারের পরিবর্তে সচল সড়ক পুনর্নির্মাণকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হলো।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক পুনর্নির্মাণকাজে যানবাহন চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে ২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মজলিশপুর-কানাইভিটা অংশ সম্পূর্ণ খুঁড়ে ফেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এতে স্থানীয় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আগে মজলিশপুর থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত ইজিবাইক ভাড়া ছিল মাথাপিছু ১০ টাকা, যা বর্তমানে ২০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এছাড়া ভাঙা সড়কে চলাচলের কারণে যানবাহনের টায়ার নষ্ট হওয়া ও যান্ত্রিক ত্রুটি বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের একটি অংশ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, কাজটির ঠিকাদার নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুযোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং জনভোগান্তির কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
