তুরাগ নদে ধাওয়া খেয়ে কয়েকজনের নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনাকে পুলিশ ভিত্তিহীন দাবি করলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা ভিন্ন বর্ণনা দিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গত ২২ জুন পুলিশের ধাওয়ার মুখে আশুলিয়া বাজারের পাশে গরুর হাটের কাছে তুরাগ নদে কয়েকজনকে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। নদী থেকে পুলিশ কয়েকজনকে আটকও করে। তবে কতজন নিখোঁজ বা তলিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য কেউ দিতে পারেননি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা শুধু ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এর মধ্যে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার তুরাগ থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য দিয়ে পুলিশ দাবি করেছে, এসব মৃত্যুর সঙ্গে মিছিলের কোনো সম্পর্ক নেই।
উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহের একটি ১৮ বছর বয়সী মো. সুমনের, যিনি তুরাগের রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের পর আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, ২২ জুন বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে ট্রলার থেকে নামার সময় হুড়োহুড়িতে নদীতে পড়ে তলিয়ে যান তিনি।
এ বিষয়ে সুমনের খালু জুয়েল বাবু জানান, নিখোঁজের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং পুলিশের সঙ্গে দেখা হলেও ধাওয়ার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি তাদের। লাশ উদ্ধারের পরদিন গিয়ে তারা সুমনকে শনাক্ত করেন। তবে সুমন পিকনিকে গিয়েছিলেন বলেই তারা পুলিশকে জানান। ময়নাতদন্তের পর লাশ হস্তান্তরের সময় সুমনের বড় ভাই সালাউদ্দিন একটি কাগজে স্বাক্ষর করেন।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, সুমনের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বাদীর এফআইআর বিবরণ অনুযায়ী তারা পিকনিকে গিয়েছিলেন বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশি ধাওয়ার প্রশ্ন তোলা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত অফিসারদের ভাষ্য অনুযায়ী এমন কিছু ঘটেনি।
এর আগে ২২ জুন আওয়ামী লীগের মিছিলের পর থেকে দলটির সাত নেতাকর্মী নিখোঁজ থাকার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ তুরাগ থেকে উদ্ধারের খবরও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পুলিশ সদর দপ্তর শনিবার এক বার্তায় সাতজনের মৃত্যুর খবরকে ভিত্তিহীন দাবি করে। পরদিন রোববার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় তুরাগ থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। একই দিন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন বলেন, তুরাগ থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো ধারাবাহিক মরদেহ উদ্ধার বা হত্যাকাণ্ডের সংবাদ তাদের কাছে নেই।
সেদিন যা ঘটেছিল
আশুলিয়া বাজারের পাশে গরুর হাটের কাছেই তুরাগ নদ। ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে নদীর একাংশ ভরাট হয়ে গেছে, আর বর্ষার শুরুতে পানির চাপে মাঝখানে স্রোত বেড়েছে।
গরুর হাটের পাশের পন্টুনে বিভিন্ন ট্রলার ভেড়ে। স্থানীয় এক বিক্রেতা জানান, ২২ জুন একটি ট্রলার পন্টুনে ভেড়ার সময় বাজারের দিক থেকে পুলিশ দৌড়ে গিয়ে ধাওয়া দেয়, এতে কয়েকজন নদীতে পড়ে যান।
দুই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রলারে থাকা বেশিরভাগ মানুষকে পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে পড়ে যেতে দেখেছেন তারা। এদের মধ্যে ৬-৭ জনকে তারা নিজেরাই হাত দিয়ে টেনে তুলেছিলেন, কিন্তু পুলিশ আবার ধাওয়া দিলে উদ্ধার হওয়া মানুষগুলো ফের নদীতে ঝাঁপ দেন।
জুয়েল নামে একজন বলেন, ঘটনার দিন সকাল সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ একটি ছবি দেখিয়ে কাউকে দেখেছেন কি না জানতে চায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে একটি ট্রলার পন্টুনে ভেড়ার চেষ্টা করলে ১০-১২ জন পুলিশ দৌড়ে যায়। ট্রলারে অন্তত ৩০-৪০ জন ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই বয়সে তরুণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়, পুলিশ ধাওয়া দিলে ট্রলারের নোঙর তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর ৮-১০ জন নদীর পাড় ধরে দৌড় দেন, বাকিরা পানিতে ঝাঁপ দেন। তিনি বলেন, এদের কাউকে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শোনেননি তিনি, ট্রলার থেকে নামার আগেই ধাওয়া শুরু হয়ে যায়।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, লাফ দেওয়াদের কয়েকজন পাশের একটি ড্রেজারের কাছে গিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। তখন স্থানীয় কয়েকজন মিলে ৬-৭ জনকে পানি থেকে টেনে তোলেন। পরে পুলিশ ওই ট্রলারে উঠে পড়ে এবং পানিতে থাকা আরও কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সাঁতার না জানায় কয়েকজন তলিয়েও যেতে পারেন।
পুলিশ সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং পরের দিনও নদীর পাড়ে অবস্থান করে বলে জানান তিনি। এরপরের দুই দিনে তিনটি পরিবারকে নিজেদের ট্রলারে করে নদীতে খোঁজাখুঁজির ব্যবস্থা করে দেন স্থানীয়রা, যদিও তাদের নাম-পরিচয় তিনি জানাতে পারেননি। তবে এই সময় ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের কাউকে নদীতে অনুসন্ধানে দেখেননি বলে তার দাবি।
পরের দুই দিনে তিন মরদেহ উদ্ধার
তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন ২২ জুন বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। শুক্রবার তুরাগ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। সুমনের বাবা মো. শাহ আলম রানাভোলায় অটোরিকশা চালান, আর সুমন কামারপাড়া কাঁচামালের আড়তে কাজ করতেন।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে জেলেরা মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। মরদেহের সঙ্গে পাওয়া মোবাইল ফোনের সিমকার্ডের সূত্র ধরে পরিবারকে খবর দেওয়া হয় এবং তারা গিয়ে শনাক্ত করেন। তিনি জানান, নিহতের বড় ভাই সালাউদ্দিন বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন এবং ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সুমনের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফেইসবুক পেইজ থেকে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে হামলার জের ধরে সাতজন নিখোঁজ এবং তিন-চারজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ওসি তরিকুল এই দাবিকে ভিত্তিহীন গুজব বলে উল্লেখ করেন।
রানাভোলায় সুমনের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তার ছোট বোন সুবর্ণা একটি কক্ষে বসে আছেন। বাবা-মা ছেলের মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়ায় তাদের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সুবর্ণা বলেন, তার ভাই ২২ তারিখ সকালে কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যান, তারপর আর ফেরেননি।
সুমনের খালু জুয়েল বাবু পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ২২ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুবর্ণা ফোন করে জানান, সুমন ছাত্রলীগের মিছিলে গিয়েছিলেন এবং সম্ভবত গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরদিন থানায় গিয়ে পরিবার জানতে পারে, পুলিশ সুমন নামে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। নদীতে পড়ে যাওয়ার বিষয়েও পুলিশ কিছু জানায়নি বলে তার অভিযোগ।
এরপর পরিবার নিজেরাই ট্রলার ভাড়া করে দুই দিন ধরে নদীতে খোঁজাখুঁজি করে। ২৩ ও ২৪ জুন দুটি মরদেহ দেখলেও সেগুলো সুমনের নয় বলে নিশ্চিত হন তারা। অবশেষে ২৫ জুন রাতে পুলিশ সালাউদ্দিনকে ফোন করে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর দেয়, এবং পরিবার গিয়ে সুমনকে শনাক্ত করে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ হস্তান্তরের সময় গোসল ও কাফনের জন্য তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জুয়েল বাবু জানান।
পিকনিকে যাওয়ার তথ্য পরিবার নিজে থেকে পুলিশকে দিয়েছিল কি না জানতে চাইলে জুয়েল বাবু বলেন, সালাউদ্দিন ভয় পেয়ে শুরুতে কয়েকজনকে পিকনিকের কথা বলেছিলেন, মিছিলের কথা বললে আবার সমস্যা হবে এই আশঙ্কায়।
সুমনের মরদেহ উদ্ধারের আগের দিন ২৪ জুন রাতে আমিনবাজারে তুরাগ থেকে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার হয়। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, মরদেহটি মনিপুর মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী রনি মোল্লার, যিনি উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলে কাজ করতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গোসল করার সময় তিনি তলিয়ে গিয়ে মারা যান। তার বাবা কফিল উদ্দিন মোল্লা বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।
একই দিন নৌ পুলিশ আরিফ হাসান রাকিব নামে রানাভোলার আরেক বাসিন্দার মরদেহ উদ্ধার করে। দারুস সালাম থানার ওসি মো. নাজমুল হাসান খান একটি অপমৃত্যু মামলা হওয়ার তথ্য দিলেও বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।
আরিফের চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তার ভাই ছেলের মৃত্যুর শোকে বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, ২২ জুন বিকাল ৪টার পর থেকে আরিফের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ সিমকার্ডের সূত্রে পরিবারকে খবর দেয়। মরদেহ শনাক্ত ও ময়নাতদন্তের পর হস্তান্তর করা হয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, পরিবার নিজেরা ঘটনা না দেখায় অপমৃত্যু মামলায় কার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবেন তারা।
স্থানীয় এমপির বক্তব্য
সুমনের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ফেইসবুক পেইজ থেকে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে শনিবার বিবৃতি দেন ঢাকা-১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি এই প্রচারণাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিলের উদ্দেশ্যে নৌকায় আশুলিয়া বাজার ঘাটে পৌঁছালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযান চালান। তাড়াহুড়োর মধ্যে কয়েকজন আতঙ্কিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন এবং সাতজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে নিখোঁজ দুজনের মরদেহ উদ্ধার হয় এবং পরিবার অপমৃত্যু মামলা করে।
জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, ঘটনাস্থল তার নির্বাচনি এলাকার বাইরে এবং এতে তার বা তার দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
মাঝির খোঁজে পুলিশ, ভাই বলছেন ‘জানে না কিছুই’
সুমনের মরদেহ উদ্ধারের পর একটি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, সুমন ও আরিফ ঘটনার দিন ওই ট্রলারে ছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ জুন দুপুরে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে নৌকায় আশুলিয়া বাজার ঘাটের দিকে যান, এবং সেখানে পুলিশের ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেন। প্রতিবেদনে ট্রলারের মাঝি হিসেবে অজয় নামে একজনের উল্লেখ আছে।
এই সূত্র ধরে রুস্তমপুর ঘাটে গিয়ে জানা যায়, সেখানকার খেয়া ট্রলার চালান বিজয় রাজবংশী নামে একজন, যার ছোট ভাইয়ের নাম অজয়। বিজয় জানান, ঘটনার পর থেকে অনেকেই খোঁজ করছে, তাই ভাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। শনিবারও পুলিশ তার খোঁজে এসেছিল বলে জানান তিনি।
বিজয়ের বর্ণনায়, ঘটনার দিন ট্রলারটি যার মালিকানায় ছিল, তিনি আম্বর আলী নিজে না গিয়ে অজয়কে চালাতে বলেছিলেন। অজয় কিছু না জেনেই গিয়েছিলেন এবং পুলিশ দেখে অন্যদের মতো সাঁতরে পালিয়ে আসেন। পরদিন পুলিশ এসে আম্বর আলীকে না পেয়ে তার এক সহকারীকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, পরে ছেড়ে দেয়। আম্বর আলীর দেওয়া দুটি নম্বরেই যোগাযোগ করা যায়নি।
তল্লাশিতে অনুপস্থিত দমকল ও পুলিশ
ঘটনাস্থলের তদারককারী টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের ডিউটি অফিসার সবুজ রেজিস্ট্রার দেখিয়ে জানান, ২২ জুন নদীতে কারও পড়ে যাওয়ার কোনো রিপোর্ট তাদের কাছে আসেনি।
আশুলিয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাহবুব উল্লা সরকার বলেন, তাকে জানানো হয়েছে মিছিল থেকে সাতজনকে ধরে আনা হয়েছে, এর বেশি তার কাছে তথ্য নেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণিত ধাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো ধারণা নেই বলে জানান।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলমও একই সুরে বলেন, পুলিশের ধাওয়ায় কারও নদীতে পড়ে যাওয়ার বিষয়ে তার জানা নেই। তিনি বলেন, অফিসারদের কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছেন তার বেশি কিছু তার জানার কথা নয়।
বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কেউ ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নূরু সরকার বলেন, এ বিষয়ে তাদের কোনো দলীয় নির্দেশনা ছিল না এবং তিনি ফেইসবুকেই প্রথম খবরটি জেনেছেন।
আইনজীবীর দৃষ্টিতে প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ঘাটে ওঠার আগেই যদি ধাওয়া দেওয়া হয়, তাহলে পুলিশের পক্ষে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার আইন থাকলেও কোন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হলো, সেটি স্পষ্ট করা পুলিশের দায়িত্ব।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, নৌকায় সাধারণ মানুষ থাকলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পুলিশের ছিল কি না, এবং ধাওয়ার পরে কেউ নিখোঁজ হলে তার সন্ধানে পুলিশ কেন উদ্যোগী হয়নি। তার মতে, ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত দায়িত্ব নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
সুত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
