নিজস্ব প্রতিবেদক: নিউইয়র্ক সিটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র জোহরান মামদানি দাবি করেছেন, সাধারণ কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার সংকট ও অর্থনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তাদের এই রাজনৈতিক দর্শন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি জানান, আবাসন সংকট, আকাশচুম্বী বাড়িভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামের মতো বাস্তব সমস্যাগুলোই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের কারণ। ফলে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রান্তেই জয়ী হতে পারেন।
নিউইয়র্কের এই প্রগতিশীল ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে সাম্প্রতিক ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসনাল প্রাইমারি নির্বাচন। এই নির্বাচনে মামদানির সমর্থিত তিন প্রার্থী ক্লেয়ার ভালদেজ, দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার এবং ব্র্যাড ল্যান্ডার নিজ নিজ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন প্রার্থী বর্তমান ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যদের পরাজিত করেছেন।
মেয়র মামদানির মতে, শুধু বিরোধী পক্ষ বা বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে ভোটারদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির উচিত কেবল আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে লক্ষ্য না করে, জনগণের সামনে একটি ইতিবাচক ও স্থায়ী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা।
তবে প্রগতিশীলদের এই মূল্যায়নের সঙ্গে ডেমোক্রেটিক পার্টির সব জ্যেষ্ঠ নেতা একমত হতে পারছেন না। দলের রক্ষণশীল ও সিনিয়র নেতাদের একাংশের আশঙ্কা, নিউইয়র্কের মতো উদারপন্থী বা ডেমোক্র্যাট ঘাঁটিতে এই বামপন্থী কৌশল সফল হলেও, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে এই বার্তা সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক নীতি, বিশেষ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়েও নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন মামদানি। তিনি উল্লেখ করেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির উচিত তাদের সাধারণ ভোটারদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করা, যেখানে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন।
