নিজস্ব প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত মুজিবুর রহমানের অসহায় পরিবারকে মাত্র ৭০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২৬ জুন শুক্রবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক ও সমন্বয়ক সারজিস আলম কুলাউড়া সীমান্তে নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারের খোঁজ নিতে এবং তাঁদের সান্ত্বনা দিতে যান। তবে তাঁদের এই সফরের পর নিহতের পরিবারকে মাত্র ৭০০ টাকা তুলে দেওয়ার একটি তথ্য ও ভিডিও সামনে আসায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিহতের স্বজনদের অত্যন্ত আবেগতাড়িত ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। নিহত মুজিবের স্ত্রী কান্না ভেঙে পড়ে জানান, তাঁর তিনটি ছোট শিশু রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি সন্তানসম্ভবা। ঢাকা থেকে বড় নেতারা বিশাল গাড়িবহর নিয়ে আসার কারণে এলাকাবাসী ভাবছেন তারা হয়তো ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের শাশুড়ির হাতে মাত্র ৭০০ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি মানুষের জীবনের মূল্যের বিনিময়ে এমন সামান্য টাকা প্রদানকে তাঁরা চরম উপহাস ও অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিশাল গাড়িবহর নিয়ে এসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে অসহায় পরিবারের হাতে মাত্র ৭০০ টাকা দেওয়া মূলত প্রচার কামানো এবং ‘ফুটেজ খাওয়ার’ একটি লোকদেখানো প্রচেষ্টা মাত্র। এই ঘটনা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির প্রতি চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এদিকে এই হৃদয়বিদারক ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসীরা। ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই কুলাউড়ার দুই প্রবাসী মানবিক দিক বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে শহীদ মুজিবের স্ত্রীর কাছে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সীমান্ত হত্যার মতো সংবেদনশীল ও জাতীয় ইস্যুতে গরমাগরম বক্তব্য দেওয়া নেতাদের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে নেটদুনিয়ায় নিন্দার ঝড় বইলেও এখন পর্যন্ত এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী কিংবা সমন্বয়ক সারজিস আলমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা স্পষ্টীকরণ পাওয়া যায়নি।
