নিজস্ব প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানকে জুতাপেটা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এই অমানবিক আচরণের অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী শিক্ষক আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকালে আক্কেলপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় প্রধান শিক্ষকের বড় ভাই দারাজ উদ্দিন, মেজ ভাই দুলাল উদ্দিন, প্রতিবেশী গাজিউল ইসলামসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সম্প্রতি রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
তফসিল অনুযায়ী গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন উপলক্ষে অভিভাবকদের নিয়ে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন।
এর কয়েক দিন পর থেকেই ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি হারুনুর রশিদ নির্বাচিত সদস্যদের অফিশিয়াল তালিকা পরিবর্তন করে তাঁর নিজস্ব পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধান শিক্ষককে অনৈতিকভাবে চাপ দিতে থাকেন।
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, গত ২১ জুন বেলা আড়াইটার দিকে হারুনুর রশিদ কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে আচমকা বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা জোরপূর্বক নির্বাচনের সব কাগজপত্র দেখতে চান এবং সদস্যদের পূর্বনির্ধারিত তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা চালান।
এতে প্রধান শিক্ষক চরম আপত্তি জানালে এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হারুনুর রশিদ নিজের পায়ের জুতা খুলে শিক্ষকের গালে আঘাত করেন এবং তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়াবহ হুমকিও প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষক আজাদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি একজন শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও চরম অপমানজনক। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি গত ২২ জুন আক্কেলপুর থানার ওসি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এই লিখিত অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে ঘটনাটি আপসরফা করার জন্য তাঁকে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে কিছু সাধারণ অভিভাবকের আপত্তি ছিল এবং সেই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করতে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।
প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা বা লাঞ্ছিত করার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে।
আক্কেলপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত অবগত হয়েছেন এবং প্রধান শিক্ষক থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের একটি অনুলিপি তাঁকে দিয়েছেন। যেহেতু ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক সরাসরি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, সেহেতু শিক্ষা অফিসের এখানে করার কিছু নেই।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
