ফোরটিন ডেস্ক : সারাদেশজুড়ে আবার ছড়িয়ে পড়েছে চরম ও অমানবিক লোডশেডিংয়ের দাপট। তাপমাত্রা একটু বৃদ্ধি পেতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনির্দিষ্টকালের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রোববার এক দিনেই দেশে রেকর্ড ৩,৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের (২০২৩ সালের ২৭ জুনের সর্বোচ্চ ৩,৪১৯ মেগাওয়াট) লোডশেডিংয়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে, দেশের বাস্তব ঘাটতি ইতোমধ্যে চার হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে।
দিনরাত নির্দিষ্ট কোনো সূচি ছাড়া কোথাও দিনে ১২ ঘণ্টা, আবার গ্রামাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। ফলে গৃহস্থালির সাধারণ জীবনযাত্রার পাশাপাশি ঝিমিয়ে পড়েছে কৃষি, শিল্প উৎপাদন, সাগরে ইলিশ শিকার ও স্বাস্থ্যসেবা।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টায় ১৬,০৫১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ ঘাটতি বা লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৩,৬৭১ মেগাওয়াট। এর আগে গত ৩ আগস্ট রাতে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩,৫১২ মেগাওয়াট। তবে সাধারণত সকালে চাহিদা কম থাকলেও এবার সকালের চিত্রও ছিল ভয়াবহ; দুপুর ১২টায় ৩,৩১২ মেগাওয়াট এবং শনিবার গভীর রাতে ৩,৬০৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয়েছে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলো।
এই নজিরবিহীন সংকটের মূল নেপথ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৯৯ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হতো, তা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ঘনফুটে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পাঁচ-ছয় হাজার মেগাওয়াট থেকে নেমে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটে এসে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশের বৃহত্তম পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় সেখান থেকে ৫০০ মেগাওয়াট মিলছে এবং ভারতের আদানি পাওয়ার থেকেও সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি চালু না হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চরম ঘাটতি রয়েই গেছে।
সারাদেশে মানবিক বিপর্যয়: বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের তীব্র মাশুল গুনছে দেশের প্রান্তিক খাতগুলো। যশোরের অভয়নগরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে একটি খামারেই মারা গেছে ৪ শতাধিক পোলট্রি মুরগি।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও মহিপুর মৎস্য বন্দরে বরফকলগুলো বিদ্যুৎহীন থাকায় দেখা দিয়েছে বরফের তীব্র আকাল। ১৫০ টাকার বরফের ক্যান ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও ঘাটতিতে থাকা শত শত মাছধরা ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না।
এছাড়া রংপুর, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে দিনরাত সমানে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা। নারায়ণগঞ্জেও ঘণ্টায় ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুৎ যাওয়ার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
