নিজস্ব প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে এক তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সন্দেহের জেরে ফলসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রকিবুল ইসলামকে মারধর করা হয়। রকিবুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ছোট ভাই।
ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমানের সমর্থকদের প্রথমে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে এবং তিনজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানের লোকজন তাঁর সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের ৬ থেকে ৭ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান দাবি করেন, এটি কোনো রাজনৈতিক মারামারি নয়। পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আসিত কুমার রায় জানান, খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
