নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২৩ জুন দলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নজিরবিহীন শোডাউন ও বড় ধরনের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মেগা প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। দীর্ঘ বিরতি ও সাম্প্রতিক তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা রাজপথের নিয়ন্ত্রণ পুনরুত্থান এবং নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতার জানান দিতে চান।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের একটি ডাককে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঢাকা অভিমুখে লংমার্চের ব্যাপক পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হতে যাচ্ছে দলটির জন্য অন্যতম বড় একটি মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা। তাই সারা দেশ থেকে ব্যাপক জনসমাগম ঘটিয়ে রাজপথে একটি বড় ধরনের গণজমায়েত নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।
এই বিশাল কর্মসূচি সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে দলটির হাইকমান্ড একাধিক শক্তিশালী সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিগুলো দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। মিছিল ও সমাবেশের গতিপ্রকৃতি নজরদারির পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এই কমিটিগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে প্রধান প্রধান জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি এড়ানোর বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা অভিমুখে নেতাকর্মীদের আগমন এবং মিছিলের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গঠিত কমিটিগুলো ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা শুরু করেছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের এই মেগা প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে যে ধরনের আবেগীয় ও রাজনৈতিক বয়ান তৈরি হয়েছে, তা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগামী ২১ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন সংগঠনের ঢাকা অভিমুখী লংমার্চের বাস্তব সক্ষমতা এবং ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা বলয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা যেকোনো ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
