জাবি প্রতিনিধি ,মো. আসাদুল আলম: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম-বরকত হলে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে র্যাগিং ও মানসিক হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে হলের বি ব্লকের ১৫১ নম্বর কক্ষে কয়েকজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ‘ফরমাল পরিচয়’, ‘হলের নিয়ম-কানুন’ ও ‘ম্যানার শেখানোর’ কথা বলে তাদের বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকর ও অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গণিত বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী হাশিবুর রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. রাকিব এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগে দ্বিতীয়বার ভর্তি হয়ে বর্তমানে আইন বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. আরাফাতের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন ভাষা ব্যবহার, জোরপূর্বক গান ও নাচ করানোসহ বিভিন্ন আচরণের মাধ্যমে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হলের জিএস মারুফ বলেন, ঘটনার সময় তিনি হলের বাইরে ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। প্রাথমিকভাবে র্যাগিংয়ের অভিযোগ সামনে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, র্যাগিংয়ের বিষয়ে তাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা— বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হবে নিরাপদ, সম্মানজনক ও ভীতিমুক্ত; যেখানে নবীনদের স্বাগত জানানো হবে সহমর্মিতা দিয়ে, কোনো ধরনের হয়রানি বা র্যাগিং দিয়ে নয়।
