নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হকের ‘মুতা বিয়ে’ ও ‘পরকীয়া’ প্রসঙ্গ টেনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ঢাকা-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক। তবে সরকারি ও বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি এবং অনুরোধের মুখে উক্ত বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে সম্পূর্ণ এক্সপাঞ্জ (বাদ) করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি আবু আশফাক বলেন, “মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়লেন মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কী ছিল?” একই সাথে তিনি সরকারের চার মাসের সফলতার চিত্র তুলে ধরে বিরোধী শিবিরের আন্দোলনের হুমকির কড়া সমালোচনা করেন।
তাঁর এই বক্তব্যের পরই সংসদে চরম হট্টগোল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে বলেন, যার সংসদে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়। একই সাথে ‘মুতা বিয়ে’র একটি সাধারণ ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না করাই ভালো।
পরবর্তীতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা (জামায়াত) সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “মামুনুল হক সাহেবের ব্যাপারে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা একেবারেই ভুল। উনি কোনো মুতা বিয়ে করেন নাই, গাজীপুরেও এমন ঘটনা ঘটেনি। তাকে নারায়ণগঞ্জে হেনস্তা করা হয়েছিল এবং তিনি শরীয়তসম্মত বিয়ে করেছিলেন, যা প্রতিষ্ঠিত।” তিনি এই ভুল তথ্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
এরপর সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এবং জামায়াতের মুজিবুর রহমানও এই অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান। মুজিবুর রহমান যোগ করেন, একসময় মুতা বিয়ে চালু থাকলেও ইসলামে এটি এখন সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, “মাওলানা মামুনুল হকের এই বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক চাই না।” পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইঙ্গিতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বক্তব্যটি রেকর্ড থেকে মুছে ফেলা হয়।
