নিজস্ব প্রতিনিধি : নেত্রকোণায় ১০ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণ এবং এর ফলে সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহন তালুকদার অবশেষে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর তীব্র সমালোচনার মুখে তিনি থানায় গিয়ে ধরা দিতে বাধ্য হন।
শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে মোহনগঞ্জ থানায় এসে আকস্মিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত মহন। ২৫ বছর বয়সী মহন তালুকদার মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, তবে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর দল থেকে তাঁকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করার ঠিক আগে মহন তালুকদার উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের এই জঘন্য অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। দেশের আইন ও পুলিশের ওপর আস্থা রেখে সুষ্ঠু বিচারের আশায় তিনি নিজে থেকেই সারেন্ডার বা আত্মসমর্পণ করছেন বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, এই লোমহর্ষক ঘটনায় আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পর থানায় মামলা রেকর্ড করা হলেও দীর্ঘ দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে আসামি নিজেই থানায় এসে ধরা দেওয়ার কৌশল নেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী দরিদ্র পরিবারের বিবরণ থেকে জানা গেছে, কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী ওই শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দিনমজুরের কাজ করেন এবং মা বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। গত ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে সেই সুযোগে প্রতিবেশী মহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের পর বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণে মেরে ফেলা এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হয়। ফলে ভয়ে অবুঝ শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে, কিন্তু পরবর্তীতে গত ১২ মার্চ শিশুটি তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক গড়নে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের কাছে সে সবকিছু খুলে বলে।
পরবর্তীতে দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে চিকিৎসকরা শিশুটি গর্ভবতী হওয়ার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী অসহায় শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
প্রথমে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিলে গত ২৮ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের কড়া নির্দেশনায় গত ২ মে মোহনগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে নিয়মিত মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মধ্যরাতে আসামি মহন তালুকদার থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে দ্রুত আদালতে প্রেরণ করা হবে।
