নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশের বর্তমান ২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশনে জাতীয় সংসদে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। ৫ আগস্টের পর দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে ঘটে যাওয়া ব্যাপক অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক জবরদস্তির এক চাঞ্চল্যকর খতিয়ান তুলে ধরেছেন তিনি।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ তাঁর নির্ধারিত বক্তব্যে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াত সরাসরি ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নেয়। সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ও আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে ইসলামী ব্যাংক থেকে একযোগে ৯ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এখানেই শেষ নয়, সেই বিপুল পরিমাণ শূন্যপদগুলোতে এবং ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরে তড়িঘড়ি করে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় নিজেদের প্রায় ৬ হাজার জামাত সমর্থক ও কর্মীকে সরাসরি নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের প্রথাগত নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই নজিরবিহীন রদবদলের তথ্যটি সংসদে প্রকাশ পাওয়ার পরপরই তা সচেতন নাগরিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বাজেট অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া এক অলৌকিক অনিয়মের চিত্রও দেশবাসীর সামনে উন্মোচন করেন। তিনি সুনির্দিষ্ট দাপ্তরিক তথ্য দিয়ে দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যাংকটির সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোকে রাতারাতি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে জামায়াত সমর্থিত নতুন ও পুরোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্যতা ছাড়াই একসাথে ৩টি করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ব্যাংকটিতে রাতারাতি সর্বমোট ১৩ হাজার মেগা পদোন্নতির ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের আর্থিক ও ব্যাংকিং সেক্টরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রেকর্ড। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ও কড়া বক্তব্যের পর দেশের আর্থিক খাতের সুশাসন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরণের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চব্বিশ পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক জমানায় যারা ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের কথা বলেছিলেন, তাদের সেই দাবির অন্তরালে যে কী পরিমাণ তীব্র দলীয়করণ ও মেগা রদবদলের প্রক্রিয়া চলেছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য তা পুরোপুরি স্পষ্ট করে দিয়েছে। সংসদে এই চাঞ্চল্যকর জবানবন্দির পর ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
৫ আগস্টের পর অন্যায় ও গায়ের জোরে যারা চাকরি হারিয়েছিলেন, তারা এখন তাদের চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে এবং ব্যাংকিং খাতে পুনরায় সুশাসন ফিরিয়ে আনতে নতুন করে সোচ্চার হচ্ছেন। রাজনৈতিক পণ্ডিতদের মতে, জাতীয় সংসদে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ থেকে ইসলামী ব্যাংকের এই বিপুল চাকরিচ্যুতি, জামাত কর্মী নিয়োগ এবং রাতারাতি পদোন্নতির খতিয়ান প্রকাশ পাওয়ার বিষয়টি আগামী দিনে ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে এক মেগা আইনি ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে।
