নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তাঁর দেহাবশেষ কবর থেকে তোলার অনুমতি দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার করা বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে এই আদেশ দেন।
আজ বুধবার (১০ জুন) বিকালে ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম গণমাধ্যমকে আদালতের এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ নায়কের মরদেহ কবর থেকে তুলে নতুন করে সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতিসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন জানান। সেই আবেদনের আইনি যৌক্তিকতা বিচার করে আদালত এই অনুমতি প্রদান করেন।
আদালতে জমা দেওয়া ওই আবেদনে ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালের বিবরণ টেনে উল্লেখ করা হয়, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান।
তখন সালমানের স্ত্রী সামিরা হক এবং গৃহকর্মী আবুল তাঁদের জানান যে সালমান শাহ এখনো ঘুমিয়ে আছেন। এ কথা শুনে তাঁরা গ্রিনরোডের নিজ বাসায় ফিরে যান। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোনে জানানো হয়, সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন।
খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ইস্কাটন প্লাজার সেই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখেন, সালমান শাহ তাঁর শোবার কক্ষে খাটের ওপরে অচেতন ও মরার মতো পড়ে আছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয় এবং রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার দীর্ঘ ২৯ বছর পর বর্তমানে সংশ্লিষ্ট উচ্চ আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সালমান শাহর মরদেহ পুনরায় কবর থেকে তুলে সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে সিআইডি।
