নিজস্ব প্রতিনিধি : তথাকথিত জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী দেড় বছরে দেশের সংবাদমাধ্যম বা রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ এক নজিরবিহীন ও পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছে। রাজপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকরাই এখন হত্যা ও নাশকতার মতো গুরুতর মামলার জালে বন্দি।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে অন্তত ৪৯টি মামলায় ২৮২ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৪ জন সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামি হয়ে ফেরারি জীবন যাপন করছেন। ।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই সময়ে ৮১৪ জন সাংবাদিক নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছেন। যার মধ্যে ২০২৫ সালেই নিপীড়নের শিকার হন ৬২২ জন। ৫৪টি ঘটনায় সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন ৫৮৫ জন সংবাদকর্মী। ।
বিস্ময়কর তথ্য হলো, অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে ‘জুলাই শহীদ’ সাজিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বানোয়াট হত্যা মামলা করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে শহীদ দেখিয়ে সাংবাদিকদের আসামি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ।
লালমনিরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া মাদরাসাছাত্রের ঘটনাতেও সংবাদকর্মীদের জড়ানো হয়েছে। অনেক মামলার বাদীই জানেন না তারা কেন বা কার প্ররোচনায় সাংবাদিকদের নাম এজাহারে দিয়েছেন। ।
রাজধানীর বাড্ডা ও হাতিরঝিল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় এমন সাংবাদিকদের আসামি করা হয়েছে, যারা ঘটনার সময় শত মাইল দূরে ছিলেন। অনেক বাদী স্বীকার করেছেন, সাহায্যের টোপ দিয়ে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেওয়া হয়েছে। ।
আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে এই গণমামলাগুলো করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা যেমন ন্যায়বিচার হারাবেন, তেমনি বাধাগ্রস্ত হবে আইনি প্রক্রিয়া। ।
হামলা-মামলার ভয়ে অনেক সাংবাদিক দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে আছেন। অনেককে দীর্ঘ কারাবাস শেষে জামিনে মুক্তি পেলেও পেশা ও সামাজিক মর্যাদা হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। ।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, এই উত্তাল সময়ে ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সূচকেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ।
সম্প্রতি সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে ২৮২ জন সাংবাদিকের তালিকা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের কাছে দেওয়া হয়েছে। সরকার এই হয়রানিমূলক মামলাগুলো রিভিউ করার এবং পজিটিভ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
