নিজস্ব প্রতিনিধি :
সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) না মেলায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত আট দিনে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ১৬ জনের মধ্যে একে একে ৫ জন মারা যাওয়ায় পুরো এলাকায় এখন শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহতরা হলেন—আফরুজা বেগম, সুলতানা বেগম, নন্দরানী, ফুল মিয়া ও রত্নেশ্বর। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও সরকারি টিকা পাওয়া যায়নি। পরে দোকান থেকে কিনে টিকা দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। স্বজনদের দাবি, টিকার মানহীনতা অথবা ডোজের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক স্বীকার করেছেন যে, গত দেড় বছর ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের টিকার কোনো সরবরাহ নেই। বারবার চাহিদাপত্র পাঠিয়েও টিকা মেলেনি। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানও দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুধু গাইবান্ধা নয়, খুলনা, রাজশাহী, নওগাঁ ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জলাতঙ্কের টিকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই পাঁচ বছর মেয়াদী কর্মসূচি স্থগিত করা এবং অর্থ সংকটের কারণে টিকা সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ এই পরিস্থিতিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চরম অবহেলা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ইউনিসেফের মাধ্যমে ৯ লাখ ডোজ টিকা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
