চ্যানেল ফোরটিন ডেস্কঃ সারা দেশে খুন, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম চার মাসেই এক হাজার ১৪২ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই চার মাসে মোট ১৩ হাজার ২২১টি মামলা হয়েছে। এর মানে হলো দেশে প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৩০৫টি এবং প্রতিদিন ১১০টি গুরুতর অপরাধের মামলা দায়ের হচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, আর্থিক সংকটজনিত সামাজিক অস্থিরতা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের অভাবই এই অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখনো স্বজন হত্যার বিচার পায়নি এবং অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
রাজধানীর নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল খুনিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও ডিবি পুলিশ দাবি করেছে, আসামিদের একটি ‘ছকের ভেতর’ আনা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংস হত্যা এবং রাজবাড়ীতে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ বরিশালেও এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যা জননিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত চার মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৫ হাজার ৯৯৮টি মামলা হয়েছে, যা প্রতিদিন গড়ে ৫০টিরও বেশি। এছাড়া চুর ও ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯টি এবং ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ১৮৪টি।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম নাগরিক সমাজের সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশকে সেবা প্রদানে সহায়তা করলে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
ক্রিমিনোলজি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে যেভাবে ঢেলে সাজানোর কথা ছিল, তা না হওয়ায় অপরাধীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জনমনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত বিশেষ অভিযান ও দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ
