নিজস্ব প্রতিনিধি : সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন এবং কারাবন্দি করার ক্ষেত্রে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)-এর বার্ষিক প্রিজন সেনসাস অনুযায়ী, সাংবাদিকদের জেলে পাঠানোর তালিকায় বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪তম। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের দীর্ঘ সময় ধরে বিনা বিচারে এবং চার্জশিট ছাড়াই আটকে রাখার এই চিত্রকে সিপিজে ‘দণ্ডিত হওয়ার আগেই শাস্তি ভোগ’ করার সাথে তুলনা করেছে। ।
সম্প্রতি একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবুর জামিন আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন। ২০০৭ সালের একটি পুরোনো চাঁদাবাজির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা চলছে। এর মধ্যে চারটিই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়কার হত্যা মামলা। মোজাম্মেল বাবু ছাড়াও বর্তমানে কারাগারে আছেন শ্যামল দত্ত, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা এবং শওকত মাহমুদ। ।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অনেক সাংবাদিককে প্রায় ৬০০ দিন ধরে কোনো রায় বা চার্জশিট ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে হত্যা মামলা দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত। কুনাল মজুমদারের মতে, সাংবাদিকতা ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু সেটি কখনই ফৌজদারি অপরাধ নয়। ।
নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান এই পরিস্থিতির জন্য দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক মেরুকরণকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে সংবাদপত্রগুলো শুল্ক সুবিধা ও সরকারি বিজ্ঞাপনের জন্য সরকারের ওপর নির্ভরশীল থাকে। এছাড়া ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে অনেক সাংবাদিক ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে ক্ষমতার পালাবদল হলে তাঁরা প্রতিশোধমূলক রাজনীতির শিকার হন। ।
সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বিগত সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যারা ন্যারেটিভ তৈরি করেছে তাদের অপরাধ বড়, তবে ঢালাও হত্যা মামলা করাটা সমস্যাযুক্ত।
