নিজস্ব প্রতিনিধি :
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশকের ‘দিদি’ জমানার অবসান ঘটিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ‘দাদা’ জমানা। জল্পনা ও গুঞ্জনকে সত্যি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের সহচর শুভেন্দু অধিকারীই হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। ।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিজেপির নবনির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লি থেকে উড়ে এসে অমিত শাহ দলীয় বিধায়ক পরিষদের নেতা হিসেবে তাঁর নাম নিশ্চিত করেন। ।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পাশাপাশি এদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি অঙ্গীকার করেন যে, শুধু বাংলা নয়, সমগ্র ভারত থেকেই একে একে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে। ।
বিজেপির এই ‘চানক্য’ নেতা আরও বলেন, অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা, নিরাপদ নারী এবং নিরাপদ জনতাই হবে নতুন সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা ভোটে দেড় দশকের তৃণমূল সরকারকে কার্যত গেরুয়া ঝড়ে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। ।
শুভেন্দু অধিকারীর এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বিজেপি প্রতিনিধি ও শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানান। ।
বিবৃতিতে শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সকল প্রতিনিধির সাফল্য এবং ভারতের জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। উল্লেখ্য যে, গত দুই বছরে শুভেন্দু অধিকারী শেখ হাসিনাকে ‘বৈধ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে একাধিকবার অভিহিত করেছিলেন। ।
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে এবং পরে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ।
তবে পরবর্তীতে মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে ২০২০ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম আসনে মমতাকে হারিয়ে তিনি বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা হন এবং এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসছেন। ।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শুভেন্দু অধিকারী ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া সমালোচনা করে আসছিলেন। সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে তিনি পেট্রাপোল সীমান্ত বন্ধের হুমকিও দিয়েছিলেন। ।
বিভিন্ন সমাবেশে শুভেন্দু বলেছিলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ না হলে পেঁয়াজ ও আলু রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি ড. ইউনূস সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি হাসিনাকেই বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঢাকা ফেরার কথা বলেছিলেন। ।
ঢাকার কিছু নেতার কলকাতা দখলের হুমকির জবাবে শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ভারতের শক্তি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তিনি বলেছিলেন, সেনা পাঠানোর দরকার নেই, কয়েকটা ড্রোন পাঠিয়ে দিলেই ওসামা বিন লাদেনের চেয়েও খারাপ অবস্থা হবে। ।
ইসরায়েল যেভাবে গাজাকে শিক্ষা দিয়েছে, ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু। পশ্চিম বাংলায় বিজেপির এই প্রথম সরকার গঠনের মাধ্যমে আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
