পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধর্ম, জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালি এই দিনটি পালন করে থাকেন। পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি বাঙালি জাতির ঐক্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। পহেলা বৈশাখ বছরের প্রথম দিন। এই দিনটি নতুন বছরের সূচনা হিসেবে পালিত হয়। নতুন বছরের শুরুতে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রতিজ্ঞা নেওয়া হয়। পহেলা বৈশাখ পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার দিন। এই দিনটিতে আমরা গত বছরের ভুলত্রুটিগুলো ভুলে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পাই। পহেলা বৈশাখ সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই দিনে সকলে মিলে আনন্দ-উৎসব করে থাকেন। ধনী-দরিদ্র, উচ্চ-নিম্ন সকলের মধ্যে বৈষম্য ভুলে সকলে মিলে এই উৎসব পালন করা হয়। পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই দিনে আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, গান-বাজনা, নাচ-গান ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতি প্রকাশ করে থাকি।
তারই ধারাবাহিকতায় নিয়ে সারাবিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩৩। হাসি গান আড্ডা নাচের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর এ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে সম্মিলিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় গত রবিবার ৩রা মে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফরমিং আর্ট সেন্টারে। এতে অংশ নেয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই। প্রথমবারের মত যোগ দেয় বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)।দুপুরে আয়োজন করা হয় বাহারি রকমের ভর্তা-ভাজি এবং ইলিশের সমাহার নিয়ে হাজির হয় জাহাঙ্গীরনগর পরিবার।
মঙ্গল শোভাযাত্রার ঢোলের তালের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা আহবান করে উৎসবের আবহায়ক মেঘনা পাল এবং সদস্য সচীব প্রশান্ত মল্লিক অয়ন। এসময় এলামনাইদের কাছে জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্ট সেন্টারের লাল ইট যেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক এবং অল কাউন্টি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান শিফা আমিন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উদ্বোধনি সঙ্গীত “এসো হে বৈশাখ” পরিবেশিত হয় সকল বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইদের অংশগ্রহণে। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আহবায়ক মেঘনা পাল, মেম্বার সেক্রেটারি প্রশান্ত মল্লিক অয়ন এবং সকল যুগ্ম আহ্বায়কগণ । তারা হলেন এম এস আলম (ঢাবি), ফতেপুর আলম বাবু (রাবি), সাবিনা শারমিন নিহার (চবি), বেলায়েত চৌধুরী (সাস্ট) এবং এম এ রশিদ (শেরে বাংলা)।
এই আয়োজনের একটি বিশেষ পর্ব হলো প্রবাসে বাঙালী কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নববর্ষ সম্মাননা প্রদান করা। এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেয়া হয় প্রখ্যাত কবি ও শব্দ-কারিগর শামস আল মমীনকে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে শামস আল মমীন দীর্ঘদিন ধরে কবিতা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁর লেখনীতে উঠে আসে মানুষের অনুভূতি, প্রবাস জীবনের গল্প এবং দেশাত্মবোধের গভীর টান, যা পাঠকদের মাঝে আলাদা আবেদন সৃষ্টি করেছে।
সাংস্কৃতিক পর্বে প্রথমে দলীয় পরিবেশনা নিয়ে হাজির হয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তারপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সমবেত সাংস্কৃতিক পরিবেশন করেন। একে একে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন তাদের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। সবশেষে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রেশমী মির্জা।
