ইতালির পালেরমো শহরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক আলাউদ্দিনকে (৩৮) ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত. কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে ১ লাখ ইউরো জরিমানা করারও আদেশ দিয়েছেন. তবে রায় ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে ইতালি ত্যাগ করে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে.
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জুন পালেরমোর ভিয়া রিফেরদিকো এলাকার একটি দোকানে মরক্কান বংশোদ্ভূত ও ইতালিতে জন্মগ্রহণকারী ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়. ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়. দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি আদালত আলাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই কঠোর সাজা প্রদান করেন.
স্থানীয় সূত্র ও ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিচার চলাকালীন সময়েই পালানোর পরিকল্পনা করেন আলাউদ্দিন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইউরো সংগ্রহ করেন. অভিযোগ উঠেছে যে, রায়ের মাত্র একদিন আগে অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি তাঁর বড় ভাইয়ের সহায়তায় বাংলাদেশে পালিয়ে যান. এই ঘটনায় অভিযুক্তের পাশাপাশি সহায়তাকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে.
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানের সাবেক কর্মচারী সুমন মিয়ার পরিবার বাংলাদেশে হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে. সুমন মিয়া দাবি করেছেন যে, তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বাবাকে দুই দিন আটকে রাখা হয়েছিল. এই ধরনের অপরাধের ফলে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ায় কমিউনিটির মধ্যে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে.
আলাউদ্দিনকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা. স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীকে খুঁজে বের করতে তদন্ত ও খোঁজ অব্যাহত রয়েছে. তবে এই পলাতক থাকার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি
