নিজস্ব প্রতিবেদক
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। সকল নিয়ম মেনে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেও কোনো কারণ ছাড়াই ‘সদস্য’ পদের প্রার্থী ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল উপমা বিশ্বাসের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা অ্যাডহক কমিটি ও নির্বাচন কমিশন। গত ২৮ এপ্রিল এক আকস্মিক সিদ্ধান্তে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস তার এক বিবৃতিতে জানান যে, তিনি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করা সত্ত্বেও কমিশন তাকে কেন অযোগ্য ঘোষণা করল, তার কোনো সদুত্তর দেয়নি। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তিনি হতেন খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রথম প্রার্থী। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায় থেকেও একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠনের নির্বাচনে “অসাম্প্রদায়িক চেতনা” এবং “অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ” নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর এক আবেগঘন বার্তায় ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস বলেন, আমাকে শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়নি আমার স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ন্যায্য অধিকারকেও উপেক্ষা করা হয়েছে। আমাদের দুজনের মনোনয়ন বাতিলের পর আজ মনে প্রশ্ন জাগে আমরা কি সত্যিই সেই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করতে পেরেছি, যেটিকে আমরা এত গর্বের সাথে উচ্চারণ করি?
মনোনয়ন বাতিল হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আইনজীবীরা উপমা বিশ্বাসের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে বরিশাল বার (নিজ জেলা), নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বারের সহকর্মীদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিতে না পারলেও আইনজীবীদের এই ভালোবাসাই তার জীবনের বড় অর্জন।
মনোনয়ন বাতিলের মাধ্যমে তাকে থামানো যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ আইনজীবী। তিনি জানিয়েছেন, কোনো হতাশা নয়, বরং সহকর্মীদের বিশ্বাস ও ভালোবাসা নিয়ে তিনি আগামীতে ন্যায় ও সত্যের পথে অবিচল থাকবেন।
সুপ্রিম কোর্ট বারের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এমন ঘাটতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের পথ রুদ্ধ হওয়া নিয়ে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে গুঞ্জন এখন চরমে।
