নিজস্ব প্রতিনিধি :
রংপুরের বদরগঞ্জে মসজিদের ইমাম না হয়েও সরকার ঘোষিত ইমামের ভাতা নিজের নামে তুলে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রকৃত ইমাম সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দাবি করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলিখিয়ার জামে মসজিদের নিয়োগপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে মাওলানা মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার ঘোষিত ২০২৬ সালের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ভাতা প্রকল্পে ওই মসজিদের খাদেম ও মুয়াজ্জিনের নাম থাকলেও ইমাম মিজানুর রহমানের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে জালিয়াতির মাধ্যমে ইমাম হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর কুতুবপুর ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি নয়ন মিয়ার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সরকারি তালিকা প্রণয়নের সময় তারা মাওলানা মিজানুর রহমানের নাম জমা দিলেও জামায়াত নেতা নয়ন মিয়া ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং ভাতা উত্তোলন করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে নয়ন মিয়া মসজিদে এসে মাঝেমধ্যে নামাজ পড়ানো শুরু করলে সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সেখানে নিয়মিত ইমামতি করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে অন্য একজন ইমাম সেজে সরকারি টাকা তুলে নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জামায়াত নেতা নয়ন মিয়া দাবি করেন, ওই মসজিদে কোনো স্থায়ী ইমাম ছিল না এবং স্থানীয়ভাবে আলোচনা করেই তাঁর নাম দেওয়া হয়েছে। তবে সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক এবং মাওলানা মিজানুর রহমানের দাবি অনুযায়ী নয়ন মিয়া কেবলই একজন জালিয়াতি চক্রের সদস্য।
বদরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঞ্জুমান সুলতানা অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
