নিজস্ব প্রতিনিধি :
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন মাইলফলক রচিত হতে যাচ্ছে। কেন্দ্রটি চালুর পর এর স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর, যা পরবর্তীকালে রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানি হিসেবে আজ চুল্লিতে ইউরেনিয়াম স্থাপন শুরু হবে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত তালিকায় প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার আগে আরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি রয়েছে, তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথে এটি একটি বিশাল অগ্রগতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কেন্দ্রটি চালুর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত হবে। কারণ অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো এখানে তেল, গ্যাস বা কয়লার সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ভয় নেই। একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে টানা দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। দেড় বছর পর পর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তন করলেই চলবে।
বর্তমানে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল স্থাপন করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রতিটি বান্ডেলে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড থাকে। এই স্থাপনা প্রক্রিয়া শেষ করতে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী তা ১২ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি পূর্ণোদ্যমে চালু হলে দেশের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি হবে।
ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটির সাক্ষী হতে আজ রূপপুর প্রকল্প এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশি-বেশি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের এই কার্যক্রম বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। –
