নিজস্ব প্রতিনিধি :
দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় এক নজিরবিহীন আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের অনুগত করার অভিযোগ তুলে বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই চাঞ্চল্যকর আবেদনটি জমা দেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক স্তম্ভের একটি হলো বিচার বিভাগ। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ এমন কোনো আইন করতে পারে না যা রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করে। কিন্তু নতুন এই রহিতকরণ আইনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে বিলুপ্ত করে এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী মামুন একে বিচার বিভাগের ‘হৃৎপিণ্ড’ উপড়ে ফেলার সাথে তুলনা করেছেন।
আবেদনে অত্যন্ত গুরুতর একটি আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলে আমলারা সারাদেশে বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পাবেন। এমনকি পছন্দের আসামিদের জামিন বা রায় নিজেদের পক্ষে নিতে বিচারকদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার মতো জঘন্য নজির তৈরি হতে পারে বলে আইনজীবী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আইনজীবী তাঁর আবেদনে বিশ্ব রাজনীতির উদাহরণ টেনে বলেন, এমনকি ইসরায়েলের সংসদও তাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করেনি, যার ফলে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচার চলছে। অথচ বাংলাদেশের সংসদ সরাসরি আইন করে বিচার বিভাগকে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ করে পৃথিবীর ইতিহাসে এক ‘জঘন্য ও খারাপ’ নজির সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমান জাতীয় সংসদকে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো রক্ষায় ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে অবিলম্বে তা ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে রাষ্ট্রপতির কাছে বিনীত প্রার্থনা জানানো হয়েছে। আবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ছাড়া বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না, যা সরাসরি সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।
