নিজস্ব প্রতিনিধি :
খাগড়াছড়িতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক নতুন নজির স্থাপিত হয়েছে। কোনো ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার পরেও নবগঠিত জেলা ছাত্রলীগের ৩৯ জন নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলাটিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার খাগড়াছড়ি সদর থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাদশা বুলবুল বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নবগঠিত জেলা কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জিৎজয় ত্রিপুরা এবং জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শুভমঙ্গল চাকমাসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছিল। তবে নেতাকর্মীদের দাবি, গত ২১ এপ্রিল কমলছড়ির একটি সাধারণ জমায়েতকে কেন্দ্র করে এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা সাজানো হয়েছে। কোনো ধরণের সহিংসতা ছাড়াই কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এই হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন রাজপথ কাঁপানো হুঙ্কার দিয়েছেন। তিনি বলেন, “থানায় মামলা হোক, মিছিলে হামলা হোক, তবুও বলবো আমরা জয় বাংলার লোক।” সাদ্দাম হোসেন অবিলম্বে সকল ভুয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হুশিয়ারি দেন যে, এই হয়রানির সাথে জড়িত সবাইকে আজ অথবা কাল জবাবদিহি করতেই হবে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি কায় কিসলু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ১৬ এপ্রিল কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাগড়াছড়ি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজপথের সৈনিকদের মনোবল ভাঙা যাবে না।
