নিজস্ব প্রতিনিধি :
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। শত কোটি টাকার এই প্রকল্প এখনো আলোর মুখ না দেখলেও নিয়োগ জালিয়াতি এবং আপ্যায়নের নামে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ের উৎসবে মেতেছিলেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি ৯৬টি পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অন্তত দুই দিন আগেই অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি থেকে গোপনে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়া শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে রাত ১২টা পর্যন্ত এই গোপন ভাইভা চলেছে। এমনকি চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা করে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ছয় মাসে আপ্যায়ন ও নাস্তার বিল বাবদ ১ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি খরচ দেখানো হয়েছে, যা দিনে গড়ে প্রায় ৫৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের একটি ছোট রেস্টুরেন্টের নামে এক দিনেই ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকার নাস্তার বিল করা হয়েছে। যদিও ওই রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক দিনে এত টাকার খাবার দেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পছন্দের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টেন্ডার ছাড়াই আসবাবপত্র ও গ্যাজেট কেনা এবং বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিল ভাউচার জমা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্যালারি সংস্কার ও বাউন্ডারি নির্মাণের নামেও কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে।
জাদুঘর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আপত্তি সত্ত্বেও ফারুকীর চাপে জনবল কাঠামো বিশাল করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমনকি ভিভিআইপিদের এক দিনের আপ্যায়ন ও ইন্টারনেট বিলই দেখানো হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সরকারি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় করার এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সংশ্লিষ্ট মহল।
যদিও জাতীয় জাদুঘর ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভুক্তভোগী প্রার্থীদের বক্তব্যে অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
