নিজস্ব প্রতিনিধি : সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ছবিটি দেখার পর এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছেন, “তিনি লজ্জিত, বিব্রত এবং নির্বাক। তাঁর ভাষায়, ছবিতে যে দৃশ্যটি ফুটে উঠেছে, তা শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, সামগ্রিকভাবে মূল্যবোধ ও শিষ্টাচারের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ফলে শিক্ষকদের উপর বাড়ছে মব আক্রমণ। ইউনুস সরকার ক্ষমতা দখলের পর দেশ জুড়ে চলেছে শিক্ষকদের উপর হামলা ও নিপীড়ন। প্রশাসনের নীরবতায় কিছু উগ্র শিক্ষার্থী এ ধরণের জঘন্য অপরাধ করে। যার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের নেতারা ছিল উল্লেখযোগ্য।
ছবিতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি সেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীর বিভাগের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ, যিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয় নয়, বরং এটি পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঢাবির একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ডাকসু ভিপি প্রফেসর মাহফুজা খানমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাঁকে বিনয়, শালীনতা ও মানবিক আচরণের শিক্ষা দিয়েছেন । বড়দের প্রতি সম্মান ও ছোটদের প্রতি স্নেহ—এই মূল্যবোধগুলোই একজন প্রকৃত মানুষের পরিচয় বহন করে বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান প্রজন্মের কিছু শিক্ষার্থীর আচরণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর এবং চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটের মাধ্যমে ছাত্রনেতা হওয়া সম্ভব হলেও প্রকৃত মানুষ হতে হলে প্রয়োজন বিনয়, সহনশীলতা ও শালীনতা।
আমরা জানি, “ব্যবহারে বংশের পরিচয়”—এই প্রবাদটি আজও প্রাসঙ্গিক। সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষার অভাব হলে সেই প্রভাব আচরণে প্রতিফলিত হয়। ধর্মীয় শিক্ষাতেও সীমালঙ্ঘন না করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের সামাজিক ও নৈতিক মানদণ্ড ঠিক জায়গায় আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
সবশেষে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—নতুন প্রজন্মকে সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, নম্রতা, শালীনতা ও বিনয়ের শিক্ষা দিতে হবে। তবেই একটি সুস্থ, সম্মাননির্ভর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
