গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখলে অংশ নেওয়া জুলাই আন্দোলনের এক সক্রিয় কর্মীর মুখে এবার শোনা গেল ভিন্ন সুর। দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে হতাশ হয়ে তিনি শেখ হাসিনার শাসনকালকেই ‘পরিত্রাণের একমাত্র উপায়’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে ওই আন্দোলনকারীকে বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, যে মুক্তির আশায় তারা রাজপথে নেমেছিলেন, বর্তমানে সেই সাধারণ মানুষের জীবন আরও বেশি ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে এবং জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে।
আন্দোলনের সময় সামনের সারিতে থাকা এই কর্মী আরও বলেন, দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা প্রমাণ করছে যে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা অসম্ভব। দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান অবস্থায় তিনি শেখ হাসিনার বিকল্প দেখছেন না বলে দাবি করেন।
তার এই মন্তব্যটি মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ৫ আগস্টের বিপ্লবের ফসল হিসেবে যে পরিবর্তন আসার কথা ছিল, বাস্তব চিত্র তার ঠিক উল্টো হওয়ায় এক সময়ের বিপ্লবীরাই এখন আক্ষেপ করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক মহলে এই বক্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কাজের ধীরগতি এবং নাগরিক ভোগান্তি বেড়ে যাওয়ার ফলেই আন্দোলনের সক্রিয় অংশীজনদের মধ্যে এই ধরনের হতাশা ও পুরোনো সরকারের প্রতি টান কাজ করছে।
বিশেষ করে জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং এবং নিরাপত্তাহীনতার মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষকে পূর্বের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই আন্দোলনকারীর দাবি, দেশের এই ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে শেখ হাসিনাকেই দেশের নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
