ডেস্ক রিপোর্টঃ জুলাই আন্দোলনকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ হিসেবে সর্বপ্রথম আখ্যায়িত করেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। তার এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই জামাতি- রাজাকারেরা নিজেদেরকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবী করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক এক মাস পর, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে প্রথম আলোর সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেনঃ “…স্বাধীনতা একবারই হয়। এরপর যেগুলো হতে থাকে, সেগুলোকে ‘স্বাধীনতা’ না বলে ‘মুক্তি’ বলাই ভালো। স্বাধীনতাযুদ্ধ বারবার হয় না, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চিরকালীন। চিরকালই আমরা অবরুদ্ধ হব এবং চিরকালই জাগরিত হব।”
ভীষণ উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি আরও বলেনঃ “কিছুদিন ধরে এই যে আমাদের হঠাৎ মনে হচ্ছে, আমরা মুক্ত! প্রথমে আমরা অনেকে তো এটা বিশ্বাসই করতে পারিনি। পরে ধীরে ধীরে ধাতস্থ হয়েছি। এই মুক্তিকেই এখন আমাদের মূল পরিচয় হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি।”
এই কথাগুলো তিনি বলেন সেই সময়টিতে যখন দেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামাত-রাজাকার-ইউনুস চক্র প্রচণ্ড আক্রোশে বঙ্গবন্ধুর সকল ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দিয়েছে, পুড়িয়ে ও গুঁড়িয়ে দেয়া ৩২ নম্বর বাড়িতে বারবার সরকারি বুলডোজার চালিয়ে তা নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, দেশজুড়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে চরম লাঞ্ছিত অপমানিত করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের সকল ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, সারাদেশে অকল্পনীয় মব-সন্ত্রাস আগুন-সন্ত্রাস চলছে, নির্বিচারে মানুষকে খুন করা হচ্ছে, খুনী-ডাকাত- ছিনতাইকারীর ভয়ে দেশবাসী চরম আতঙ্কগ্রস্ত, সংখ্যালঘুদের উপর নির্বিচার হামলা হচ্ছে, নারীরা চরম নিরাপত্তাহীন, দেশে চলছে চরম অরাজকতা!
এই পরিস্থিতিতে অধ্যাপক সাহেব নিজেকে ‘মুক্ত’ বলে অনুভব করছেন! এবং এই মুক্তির জন্য তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এতোটাই অধীর চিত্তে অপেক্ষা করেছিলেন যে তার যেন বিশ্বাসই হচ্ছিলো না সত্যিই এই ‘মুক্তি’ তারা অর্জন করতে পেরেছেন! তাই বলছেনঃ “প্রথমে আমরা অনেকে তো এটা বিশ্বাসই করতে পারিনি।”
তার এই কথাগুলোই বারবার ধ্বণিত- প্রতিধ্বণিত হচ্ছিলো মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধীদের মুখে মুখে যারা ৫৪ বছর ধরে অপেক্ষা করেছিলো একটি ৫ই আগস্টের, তাদের ‘মুক্তি ও স্বাধীনতা’ অর্জনের জন্য!
“এই মুক্তিকেই এখন আমাদের মূল পরিচয় হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি।”- তার এই একটি বাক্যের মধ্য দিয়েই তার মানসিকতা, তার চিন্তা, তার ক্রিয়াকর্ম সবকিছু জলের মতো পরিস্কার হয়ে যায়।
ইউনুস-জামাত চক্রের মেটিকিউলাস ডিজাইন বা সুপরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্রের সাথে সুশীল-চক্রের নষ্ট ভূমিকাটিও ইতিহাসে লেখা থাকবে; এবং সুশীলরা একটা ঘৃণিত শ্রেণি হিসেবেই গণ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে অধ্যাপক সাহেবের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। কিংবা, অধ্যাপক সাহেবের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সাহিত্যের পাঠ নেয়ার জন্য নয়। হয়তো ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য। হয়তো আরও গভীর কিছু।
“আমরা অনেকে এটা বিশ্বাসই করতে পারিনি, আমরা মুক্ত” এই শিরোনামে প্রথম আলোতে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয় ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে।
