নিজস্ব প্রতিনিধি :
সংসদ সদস্যদের জন্য প্রতিটি উপজেলায় অফিস কক্ষ বরাদ্দের সুখবরের পরপরই এবার যাতায়াতের জন্য ‘ট্যাক্স ফ্রি’ গাড়ির আবদার জানালেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়।
অধিবেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদ সদস্যদের জন্য একটি বড় সুখবর নিয়ে হাজির হন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলায় সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি করে সুসজ্জিত অফিস কক্ষ (বাথরুমসহ) নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এই কার্যক্রম শুরু হবে।
এই ঘোষণা আসার পরপরই হাসনাত আব্দুল্লাহ অফিসে বসার জায়গা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা লজ্জায় অনেক কথা বলি না। ইউএনও বা উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি গাড়ি থাকলেও আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাতে হয়, যা লজ্জার।’ এ সময় তিনি মানুষের কাছে যাওয়ার সুবিধার্থে গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
সংসদ সদস্যদের গাড়ির দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, নতুন সংসদে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী এমপিরা বাড়তি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না।
বিশেষ করে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি না নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন। বর্তমানে সরকারি কৃচ্ছতা সাধনের লক্ষ্যে জ্বালানি তেল বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের এই দাবির বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে হাস্যরসাত্মকভাবে বলেন, “ছোটদের আবদারে সবসময় ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলে ফেলেছে, সঙ্গে সঙ্গে ‘না’ বললে আমি বেশি খুশি হতাম।” তিনি আরও বলেন, একটি বড় সুখবরের পর গাড়ির আবদার আসায় তিনি খানিকটা ধাক্কা খেয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা এ বিষয়ে সরকারি দলের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বিবেচনা করার যে আশ্বাস দিয়েছেন, তার দিকেই সবার নজর এখন।
