নিজস্ব প্রতিনিধি : বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মঙ্গলবার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার আশাবাদে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ায় তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.০৪ ডলার কমে ৯৪.৪৪ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও ১.৬৬ ডলার কমে ৮৭.৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তেলবাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কিছুটা শিথিল হওয়ার আভাস। এর আগে গত সোমবার ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করার ঘটনায় তেলের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে বাজার এখন যুদ্ধের উত্তাপ ছাপিয়ে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন শান্তি আলোচনায় ইরান অংশ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। যদি এই সপ্তাহে কোনো কূটনৈতিক সমাধান বা যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার সমঝোতা হয়, তবে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দাম আরও কমতে পারে। তবে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তবে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে দাম কমার এই প্রবণতা বাংলাদেশের বাজারে কোনো সুফল বয়ে আনছে না। উচ্চমূল্যের অজুহাতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে। বৈশ্বিক তেলের চাহিদা ইতোমধ্যে ৩ শতাংশ কমে গেলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছেবিশ্ববাজারে দাম কমলে তার সুফল কেন পাচ্ছেন না দেশের সাধারণ মানুষ?
